| বঙ্গাব্দ

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর ও জামায়াত আমিরের বিচার দাবির আল্টিমেটাম |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-02-2026 ইং
  • 974511 বার পঠিত
পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর ও জামায়াত আমিরের বিচার দাবির আল্টিমেটাম |
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমিরের বিচার দাবির আল্টিমেটাম

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর ও জামায়াত আমিরের বিচার নিশ্চিতের আল্টিমেটাম

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলার ইতিহাসের পরতে পরতে যেমন বীরত্বের গল্প আছে, তেমনি আছে কিছু কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে গঠিত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (যা বিভিন্ন সময়ে বিডিআর ও বর্তমানে বিজিবি নামে পরিচিত) শতবর্ষের বেশি সময় ধরে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আসছে। তবে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় যা ঘটেছিল, তা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। আজ সেই বিভীষিকাময় পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার যদি এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে তা হবে তাদের চরম ব্যর্থতা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০৫ পরবর্তী) ব্রিটিশ আমলে গঠিত 'বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ' থেকে আজকের বিজিবি—এই বাহিনীর ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবময়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা ছিল অনন্য। তবে ২০০৯ সালের পিলখানা বিদ্রোহ সেই গৌরবে এক কালিমালিপ্ত আঘাত হানে।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সাল থেকে এই দিনটি 'জাতীয় শহীদ সেনা দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে এখন সময় এসেছে পর্দার আড়ালের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের। ১৯ শতকের শুরুতে যেমন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডকেও তেমনি এক সুগভীর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকীতে বনানী কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ। পিলখানার শহীদদের স্মরণে পুরো জাতি আজ শোকস্তব্ধ।

ডা. শফিকুর রহমানের কড়া হুশিয়ারি

দুপুরে বনানী কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "পিলখানা বিদ্রোহ ছিল মূলত দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে সামরিকভাবে পঙ্গু করার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সরাসরি যোগসূত্র ছাড়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সম্ভব ছিল না।"

তিনি আরও যোগ করেন, "জনগণ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সত্য জানার অপেক্ষায় আছে। বিএনপি যদি এই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং নেপথ্যের হোতাদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে এটি তাদের চরম ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে।" জামায়াত আমিরের মতে, এটি কোনো আকস্মিক বিদ্রোহ ছিল না, বরং বেছে বেছে মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার এক নীল নকশা ছিল।

পিলখানা ট্র্যাজেডির সেই কালো দিন

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানা সদর দপ্তরে দরবার চলাকালীন বিদ্রোহ শুরু হয়। এই নৃশসং ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। গত ১৫ বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে না আসায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি: ২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী অনেকবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। তবে পিলখানা ট্র্যাজেডি ছিল সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী। ২০২৪ পরবর্তী নতুন সরকার যদি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করতে পারে, তবেই সামরিক বাহিনীর মনোবল এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের এই সরকার এখন এক বড় অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন—সেটি হলো 'পিলখানার বিচার'।


সূত্র: যুগান্তর, বাসস, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ এবং পিলখানা ট্র্যাজেডি আর্কাইভ (২০০৯-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency